বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৩২ অপরাহ্ন
মেহেদী হাসান মিরাজ স্পোর্টস ডেস্ক:: ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (সিপিএল) অভিষেকেই বাজিমাত করলেন অফ স্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজ। প্রথম ম্যাচেই বল হাতে দেখালেন ঘূর্ণির জাদু। মিরাজ ও ইমরান তাহিরের স্পিনার ঘূর্ণিতে ১১৯ রানেই গুটিয়ে গেল সেন্ট লুসিয়া কিংস। এরপর কুয়েন্টিন স্যাম্পসনের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে ৯ বল হাতে রেখে ৪ উইকেটের জয় তুলে নিয়েছে গায়ানা অ্যামাজন ওয়ারিয়র্স।
বাংলাদেশি অলরাউন্ডার মিরাজ ৪ ওভারে ১৩ রানে ৩ উইকেট নিয়েছেন। সঙ্গে অভিজ্ঞ ইমরান তাহিরের শিকার পাঁচ উইকেট।
গায়ানার প্রভিডেন্স স্টেডিয়ামে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা অবশ্য মন্দ ছিল না সেন্ট লুসিয়ার। পাওয়ার প্লেতে ১ উইকেট হারিয়ে ৫১ রান তোলে তারা। কিন্তু সপ্তম ওভারে মিরাজের আগমনেই বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। প্রথম ওভারেই জন ক্যাম্পবেলকে ফিরিয়ে শুরু করেন এই অফস্পিনার। এরপর নিজের তৃতীয় ওভারে পরপর কেমল সেভ্রয় ও চারিথ আসালঙ্কাকে সাজঘরের পথ দেখান।
মিরাজের ঘূর্ণির পর আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠেন অধিনায়ক ইমরান তাহির। তাঁর গুগলিতে একে একে ফিরেছেন কেমল পুরান, রস্টন চেজ, ম্যাকেনি ক্লার্ক, ম্যাথিউ ফোর্ড ও জশুয়া বিশপ। ৪ ওভারে মাত্র ১৭ রান দিয়ে নিয়েছেন ৫ উইকেট। সেন্ট লুসিয়ার ইনিংস থামে ১৮.৫ ওভারে ১১৯ রানে।
জবাবে গায়ানাও শুরুতে খুব একটা স্বচ্ছন্দ ছিল না। পাওয়ার প্লেতে ১ উইকেটে আসে ২৩ রান। তবে গ্লেন ফিলিপস ও শাই হোপের ৫৩ রানের জুটি রান তাড়ার ভিত গড়ে দেয়। ফিলিপস এবং হোপ করেন ২১ রান।
পাঁচ নম্বরে নেমে ব্যাট হাতে অবশ্য মিরাজের অবদান ছিল মাত্র ১ রান। শেষ দিকে ম্যাচটা জমিয়ে তুললেও সেখান থেকে গায়ানাকে আর বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি। কারণ তখন ক্রিজে কুয়েন্টিন স্যাম্পসন। মাত্র ১১ বলে ৫ ছক্কা ও এক চারে অপরাজিত ৩৭ রানের বিস্ফোরক ইনিংসে ম্যাচটাকে মুহূর্তেই নিজেদের করে নেয় গায়ানা। ১৮.৩ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ১২২ রান তুলে জয় নিশ্চিত করে তারা।
অসাধারণ বোলিং করা মিরাজ বলেন, পিচটা দেখে মনে হচ্ছিল কিছুটা স্পিন সহায়তা পাওয়া যেতে পারে। আমি শুধু মাথায় রেখেছি, সঠিক জায়গায় বল ফেলতে পারলে ব্যাটসম্যানদের জন্য তা কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। আমার মতে, এই উইকেটে ঘণ্টায় ৮৫ থেকে ৯০ কিলোমিটার গতি বেশ কার্যকর। আমি সেই গতিতেই বল করার চেষ্টা করছি।
প্রথমবারের মতো সিপিএল খেলতে নেমে দর্শকদের উন্মাদনা দেখে মুদ্ধ মিরাজ নানান, দর্শকরা দারুণ! তারা এসে ‘ওয়ারিয়র্স’ দলকে সমর্থন জোগাচ্ছে, যা সত্যিই উপভোগ্য একটি বিষয়। আশা করি তারাও খেলাটি খুব উপভোগ করেছে।
অভিজ্ঞ লেগ স্পিনার ইমরান তাহিরের সঙ্গে প্রথমবার খেলাটাও মিরাজের কাছে আলাদা অনুভূতি দিয়েছে, ৪৭ বছর বয়সেও তাহির যেভাবে খেলছেন, ফিট আছেন এবং দুর্দান্ত পারফর্ম করছেন। আমার জন্য এটি একটি বিশেষ মুহূর্ত এবং আমি সত্যিই খুব আনন্দিত। কারণ তার সাথে আমি এই প্রথমবার খেলছি।